তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের দুটি প্রতিষ্ঠান—‘রাফায়েত ফ্যাব্রিক্স লি:’ এবং ‘এস (ইসলাম) হোম অ্যান্ড ফ্যাশন লি:’-এর বিরুদ্ধে বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে আনুমানিক ৪৫৫ কোটি টাকার শুল্ক ও রাজস্ব ফাঁকির মারাত্মক অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর দাখিল করা এক লিখিত আবেদনে এই অভিযোগ করা হয়, যার অনুলিপি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরেও পাঠানো হয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, শুল্কমুক্ত সুবিধায় শতভাগ পলিয়েস্টার নিট ফ্লিস ফ্যাব্রিক্সের মতো কাঁচামাল আমদানি করে তা রপ্তানিমুখী উৎপাদনে ব্যবহার না করে অবৈধভাবে স্থানীয় খোলা বাজারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। একই এইচএস কোড (61091000) ব্যবহার করে আন্ডার-ইনভয়েসিং বা মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের শুল্ক ফাঁকির বিষয়টিও আবেদনে উঠে এসেছে।
অভিযোগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারের একটি বড় নেটওয়ার্কের দিকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ‘আল মাসাহা টেক্সটাইলস ট্রেডিং এলএলসি’-এর সঙ্গে দেশীয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যবসায়িক ও মালিকানাগত যোগসাজশের কথা উল্লেখ করে এই ‘রিলেটেড পার্টি ট্রানজেকশন’-এর মাধ্যমে বিদেশে মানিলন্ডারিং করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার জোর দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ঢাকা দক্ষিণ বন্ড কমিশনারেটের সাবেক যুগ্ম কমিশনার কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ সুবিধার বিনিময়ে বন্ড লাইসেন্স ও শুল্ক তদারকিতে অনিয়ম করার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার ফলে সরকারের আনুমানিক ৯০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। আবেদনে উক্ত কর্মকর্তা ও তাঁর নিকটাত্মীয়দের নামে ঢাকা ও নিজ এলাকায় শত কোটি টাকার জমি, ভবন, ব্যাংকে কোটি টাকার ডিপিএস ও শেয়ার বিনিয়োগসহ বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
ধানমন্ডির বাসিন্দা ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক আবু কালাম আজাদের দায়ের করা এই আবেদনের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তদন্তের সুবিধার্থে বায়িং হাউস ও আমদানিকারকের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক যাচাই, বন্ডেড কাঁচামালের ব্যবহার অনুপাত (কনসাম্পশন চার্ট) নিরীক্ষা, কারখানার প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা পরীক্ষা এবং সম্পদের উৎস ও মানিলন্ডারিং খতিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে। এনবিআর ও দুদক সূত্রে জানা গেছে, উত্থাপিত অভিযোগসমূহ যাচাই-বাছাইয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে আইনি মানদণ্ড অনুযায়ী, এসব অভিযোগ তদন্ত ও আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিবাদী পক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

