রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উঠে এসেছে। সংলাপটির আয়োজন করে ভয়েস ফর রিফর্ম।
কুমিল্লা–৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ক্ষমতাসীনরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কার থেকে সরে আসে, তবে ভবিষ্যতে আরেকটি গণ–অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তিনি দাবি করেন, “চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থান ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য নয়, রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে হয়েছিল।”
তার মতে, পুরোনো ব্যবস্থা বহাল থাকলে “যেকোনো ব্যক্তি আবারও হাসিনার মতো হয়ে উঠতে পারে,” এবং তিনি এটিকে একটি ব্যক্তির নয়, বরং “ফ্যাসিবাদী চিন্তার সমষ্টি” হিসেবে উল্লেখ করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ সতর্ক করে বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোয় মৌলিক পরিবর্তন না আনলে দেশ আবারও অন্ধকারের দিকে যেতে পারে।
গুম হওয়া ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ এমন একটি রাষ্ট্র চেয়েছিল যেখানে কাউকে জোরপূর্বক গুম করা হবে না।
মানবাধিকার কমিশনকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখার সমালোচনা করে তিনি বলেন, যদি সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ কার্যকর না হয়, তবে ২০০৯ সালের আইনের আওতায় তদন্তের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে চলে যেতে পারে।
এতে সংবেদনশীল ঘটনাগুলোর তদন্তে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বাধাগ্রস্ত হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংলাপে আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী মানজুর–আল–মতিন বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণসংক্রান্ত অধ্যাদেশ দ্রুত পাস হলেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতকারী আইনটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে।
তিনি সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এবং গুম প্রতিরোধের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে বিলম্ব করা উচিত নয়।
“বিচার বিভাগের স্বাধীনতা–সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল ও গুম প্রতিরোধ/প্রতিকার অধ্যাদেশ স্থগিত: সুশাসন ও মানবাধিকারের অগ্রযাত্রার প্রতি হুমকি” শীর্ষক এই সংলাপে বক্তারা একমত হন যে—
রাষ্ট্রের টেকসই গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান এবং সামগ্রিক রাষ্ট্র কাঠামোয় কার্যকর সংস্কার জরুরি।

