রোনান সুলিভানের শেষ শটে বাংলাদেশ বিজয়ী, টানা দ্বিতীয়বার অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়ন
মালদ্বীপের মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে রোনান সুলিভান বাংলাদেশের হয়ে টাইব্রেকারে শেষ শটে গোল করে দেশের জন্য শিরোপা নিশ্চিত করেছেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে বল জালে জড়ানো মাত্রই হাজারো প্রবাসী বাঙালির উদ্দাম উল্লাসে মেলার গ্যালারি কেঁপে ওঠে।
নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্র থাকার পর টাইব্রেকারে বাংলাদেশ ভারতকে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো দক্ষিণ এশিয়ার অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন হয়।
ভারতের প্রথম শটটি দুর্বল হওয়ায় বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন সেটি আটকান, যা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। এরপর ভারত টানা তিনটি গোল করলেও বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকেনি। মোর্শেদ, চন্দন ও বদলি নামা রিয়াদ ফাহিম লক্ষ্যভেদ করে দলের খেলা প্রতিযোগিতামূলক রাখেন।
বাংলাদেশের চতুর্থ শটটি স্যামুয়েল রাকসাম ক্রসবারে লাগালে ম্যাচ ৩-৩ সমতায় ফিরে আসে। পঞ্চম শটে ভারতের শট পোস্টের ওপর দিয়ে গেলে শিরোপার সুযোগ বাংলাদেশের সামনে খুলে যায়। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রোনান সুলিভান শেষ শটে গোল করে বাংলাদেশের বিজয় নিশ্চিত করেন।
নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশই ছিল বেশি আক্রমণাত্মক। প্রথমার্ধে অন্তত দুটি নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করেছিল তারা। ১৩ মিনিটে রোনান সুলিভানের ফ্রি-কিক অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীর হেডের সঙ্গে মিস করে। ১৯ মিনিটে স্ট্রাইকার মানিকের বাড়ানো বলে রোনান ঠিকঠাক পা ছোঁয়ালে আগেই এগিয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী বলেন, “এমন একটি জয় নিয়ে গর্বিত। দেশের হয়ে শিরোপা জিততে পেরে খুব ভালো লাগছে। দর্শকদের ধন্যবাদ, তাঁরা পুরোটা সময় আমাদের সমর্থন দিয়েছেন।”
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ মার্ক কক্স বলেছেন, “এই ফুটবলাররা কখনো হাল ছাড়ে না। তারা তাদের পতাকার জন্য খেলে। আজ সেটাই দেখিয়েছে।”
শেষ দিকে রোনান ও ডেকলান সুলিভান দুই ভাই এমন চাপ সৃষ্টি করেন, যা ভারতীয় রক্ষণকে দিশেহারা করে। ২০২২ সালে ভুবনেশ্বরে ভারতের কাছে হারের পর চার বছর পর একই মঞ্চে প্রতিশোধ নিয়েছে বাংলাদেশের তরুণরা।
মাঝে ২০২৪ সালে ভারতকে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে নেপালকে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ জেতে বাংলাদেশ। বয়সভিত্তিক ফুটবলে এই ধারাবাহিক সাফল্য দেশের ফুটবলের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে।

