‘প্রিন্স’ নিয়ে শাকিব খানের স্বীকারোক্তি: সময়স্বল্পতায় অপূর্ণ থেকে গেল প্রত্যাশা
ঈদের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘প্রিন্স; ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন ঢাকা’ ঘিরে দর্শকের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ফারাক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। বিশেষ প্রদর্শনী শেষে তিনি স্বীকার করেছেন সিনেমাটির বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কথা।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরা সেন্টার পয়েন্টের স্টার সিনেপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন Shakib Khan। তার সঙ্গে ছিলেন সিনেমার দুই নায়িকা Jyotirmoyee Kundu ও Tasnia Farin, পরিচালক Abu Hayat Mahmudসহ অন্যান্য কলাকুশলীরা।
সিনেমা প্রদর্শনীর পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শাকিব খান বলেন, সাধারণত বহু গল্প শুনে একটি বেছে নেন তিনি। তবে ‘প্রিন্স’-এর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। ভারতে শুটিংয়ের অনুমতি না পাওয়া, সেট ভেঙে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া—এসব জটিলতায় সময় নষ্ট হয়েছে অনেক। ফলে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত শুটিং করতে হয়েছে, যা সিনেমার গুণগত মানে প্রভাব ফেলেছে।
তিনি বলেন, “আমার জীবনে এই প্রথম ঈদের সিনেমার শুটিং ঈদের আগের দিন পর্যন্ত করেছি। সময়ের অভাবে অনেক কিছু ঠিকমতো করা যায়নি।” এমনকি তাসনিয়া ফারিণের সঙ্গে আইটেম গান এবং ‘পরী’ গান দ্রুত শেষ করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সিনেমাটির প্রযুক্তিগত দুর্বলতার কথাও স্বীকার করেন শাকিব। সাউন্ড, কালার গ্রেডিং ও ভিএফএক্সে ঘাটতি থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, মুক্তির পর প্রথম পাঁচ দিন মাল্টিপ্লেক্সে না চলা সিনেমাটির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে।
নায়িকা Tasnia Farinও প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সিনেমাটি নিয়ে তার আশা অনেক বেশি ছিল, তবে সময় ও পরিস্থিতির কারণে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে পরিচালক Abu Hayat Mahmud ইতিবাচক দিক তুলে ধরে জানান, নানা জটিলতা সত্ত্বেও সিনেপ্লেক্সে মুক্তির পর থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছে ‘প্রিন্স’। দর্শকদের কাছ থেকে ‘প্রিন্স ২’-এর দাবিও আসছে বলে জানান তিনি।
ঈদে ১৩৩টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমাটি বড় বাজেট ও আন্তর্জাতিক মানের কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আলোচনায় ছিল। তবে মুক্তির পর দর্শকদের একটি বড় অংশের মতে, সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি ‘প্রিন্স’।
তবুও ব্যর্থতা স্বীকার করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন Shakib Khan। এখন দেখার বিষয়, এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তার পরবর্তী কাজ কতটা বদলে যায়।

