ঢাকামঙ্গলবার , ২৮ জুলাই ২০২৬
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও কর ছাড়ের বৈপরীত্য: রাজস্ব আহরণে অসংগতি ও জনস্বার্থের ঝুঁকি

Md Rasel
জুলাই ২৮, ২০২৬ ৬:৪৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দেশের কর-জিডিপির অনুপাত বর্তমানের ৬.৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০৩৫ সাল নাগাদ ১৫ শতাংশে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। অন্যদিকে সদ্য অনুমোদিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী বাজেট বাস্তবায়নে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশাল বাজেটের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে বিলাসী পরিচালন ব্যয়, যা সহজেই পরিহার করা সম্ভব ছিল। কিন্তু তা না করে বছর বছর ব্যয় বাড়িয়ে নাগরিকদের ওপর বাড়তি করের বোঝা চাপানো হচ্ছে। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সরকার একদিকে কারেন্ট জালের মতো কঠোর ব্যবস্থার তাগিদ দিচ্ছে, অথচ অন্যদিকে বিভিন্ন গোষ্ঠী ও শ্রেণিকে একের পর এক কর ছাড় ও মওকুফ সুবিধা দিচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক এবং রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় প্রতিবন্ধক।

বাজেটে প্রদত্ত এই কর ছাড়ের ধরন বিশ্লেষণ করলে নানা অসংগতি ফুটে ওঠে। মোবাইল ফোনের সিমের ওপর আগের ৩০০ টাকা কর প্রত্যাহার করায় সরকার প্রায় ১,২০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারালেও সাধারণ গ্রাহক কোনো সুবিধা পাবে না; পুরো অর্থই অপারেটরদের পকেটে যাবে। অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে প্রসাধনী সামগ্রীর (যেমন: লিপস্টিক, ক্রিম, লোশন) ওপর শুল্ক-কর বাড়ানো উচিত হলেও বাজেটে তা কমানো হয়েছে। এছাড়া দাতব্য ও সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের কর অব্যাহতির তালিকায় নতুন ১১টি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা হয়েছে, যার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও অবাণিজ্যিক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকারের ওপর থেকে ৫ শতাংশ ভ্যাট কমানো হয়েছে, যা কেবল বিত্তবানদের গহনাবিলাস ও অস্বচ্ছ উপায়ে কালো টাকা সাদা করার প্রবণতাকেই উৎসাহিত করবে। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির (এআরটি) কারণেও বাংলাদেশকে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের কর ছাড় দিতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিশাল লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এই ধরনের স্ববিরোধী ও অসংগতিপূর্ণ সিদ্ধান্ত কীভাবে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকে যায়। বিত্তবানদের এসব সুবিধা দেওয়ার ফলে সৃষ্ট রাজস্ব ঘাটতি শেষ পর্যন্ত স্বল্পবিত্ত সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি পরোক্ষ কর আরোপের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে বাজেট পাস হলেও এটি সাধারণ মানুষের জনস্বার্থের পরিপন্থি এবং তাঁদের জন্য চরম কষ্টদায়ক পরিণতি ডেকে আনছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।