হিন্দু দায়ভাগা আইন অনুযায়ী ভাইয়ের বিধবা স্ত্রীর জীবদ্দশায় তার সম্পত্তিতে কোনো বোন উত্তরাধিকারী (রিভার্সনার) হিসেবে স্বত্ব বা অধিকার দাবি করতে পারবেন না—এমন মর্মে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জমি-সংক্রান্ত ২০০৮ সালের একটি দেওয়ানি রিভিশনের রুল খারিজ করে বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল এবং বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন। মামলাটির মূল রায়টি লিখেছেন কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলাম, যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট অধস্তন আদালতের সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখলেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, পটিয়া উপজেলার অধিবাসী রামকান্ত বিশ্বাস ১৯২০ সালে তার ছেলে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের নামে ১.৩৫ একর জমি ক্রয় করেন। বাবার জীবদ্দশাতেই সতীশ চন্দ্র এবং ১৯৩৩ সালে রামকান্ত বিশ্বাস মারা যান। পরবর্তী সময়ে সতীশের স্ত্রী সাবিত্রী বালা ১৯৯৬ সালে উক্ত জমি ড. মনোরঞ্জন মহুরীর কাছে বিক্রি করেন। তবে সতীশের বোন শৌল বালা দাস দলিলটিকে জাল ও বেআইনি দাবি করে ১৯৯৮ সালে পটিয়ার চৌকি আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে সাব-অর্ডিনেট জজ আদালত ২০০০ সালে এবং আপিল শুনানি শেষে ২০০৭ সালে চট্টগ্রামের ১ম অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত উভয়ই বাদীর মামলা খারিজ করে দেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করা হলে ২০০৮ সালে রুল জারি করা হয়েছিল, যা চূড়ান্ত শুনানি শেষে সম্প্রতি খারিজ করা হয়।
হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে দায়ভাগা হিন্দু আইনের অধীনে বিধবার অধিকার ও উত্তরাধিকার স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন যে, স্বামীর মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তিতে স্বত্ব লাভ করেন। যদিও হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বিধবার ক্ষমতা সীমিত, তবে এই হস্তান্তরকে কেবল তিনিই চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন, যিনি বিধবার মৃত্যুর পর উক্ত সম্পত্তির প্রকৃত পরবর্তী উত্তরাধিকারী বা ‘রিভার্সনার’ হওয়ার যোগ্য। যে ব্যক্তির বর্তমানে বা ভবিষ্যতে সম্পত্তিতে কোনো আইনগত স্বার্থ বা অধিকার নেই, তিনি হস্তান্তরটি ‘আইনগত প্রয়োজনে’ করা হয়নি—এমন যুক্তি দেখিয়েও মামলা করতে বা হস্তান্তরের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন না। আদালতে রিভিশন আবেদনের পক্ষে আইনজীবী সমীরণ দাস গুপ্ত এবং বিবাদীপক্ষে আইনজীবী তৌফিক আনোয়ার চৌধুরী শুনানি পরিচালনা করেন।

