উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনায় আধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হলেও তারা এমন এক হুমকির মোকাবিলা করছে, যার জন্য এগুলো মূলত তৈরি নয়। ইরান থেকে আসা নিচু দিয়ে উড়ে চলা ধীরগতির ড্রোন—বিশেষ করে শাহেদ-১৩৬—এখন এই অঞ্চলের নিরাপত্তার প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ড্রোন প্রতিহত করতে যুদ্ধবিমান ব্যবহার কার্যকর হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়।
- একটি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন তৈরির খরচ: ২০,০০০–৫০,০০০ ডলার
- একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এক ঘণ্টা উড়ানোর খরচ: ২৫,০০০+ ডলার
- একটি AIM-9X Sidewinder ক্ষেপণাস্ত্র: প্রায় ৪,৮৫,০০০ ডলার
- একটি AIM-120 AMRAAM ক্ষেপণাস্ত্র: ১০ লাখ ডলারের বেশি
- দিনরাত টহলে থাকায় পাইলটদের ওপর বাড়ছে চাপ
- যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ও বিকল হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে
- ধীরগতির ড্রোন লক্ষ্য করা কঠিন—ফাস্ট জেট সহজেই টার্গেট ছাড়িয়ে যেতে পারে
- জনবহুল এলাকায় গুলি চালালে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে
- কেন ড্রোন ঠেকানো কঠিন?
ড্রোনগুলো:
- ছোট ও কম উচ্চতায় উড়ে
- রাডারে শনাক্ত করা কঠিন
- কখনো ঝাঁক আকারে আক্রমণ করে
ফলে প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (যেমন প্যাট্রিয়ট) ব্যবহার করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল—একটি ইন্টারসেপ্টরের দাম প্রায় ৪০ লাখ ডলার।
বর্তমানে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ চলছে:
- ড্রোনের মতো একই উচ্চতা ও গতিতে চলতে পারে
- স্বল্প খরচে গুলি বা ছোট ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ধ্বংস সম্ভব
- ড্রোন দিয়ে ড্রোন ধ্বংস—সবচেয়ে সাশ্রয়ী পদ্ধতিগুলোর একটি
- যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে হাজার হাজার এমন ড্রোন পাঠিয়েছে
- ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক সস্তা
- তবে কাছাকাছি যেতে হয়, ঝুঁকি বেশি
- প্রায় শূন্য খরচে ড্রোন ধ্বংস সম্ভব
- ইসরায়েল ইতোমধ্যে এ ধরনের সিস্টেম ব্যবহার শুরু করেছে
- সংযুক্ত আরব আমিরাতও আগ্রহী
২০২২ সালের যুদ্ধের পর ইউক্রেন ড্রোন প্রতিরোধে দক্ষতা অর্জন করেছে। এখন উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছে—বিশেষজ্ঞ দল ও প্রযুক্তি উভয়ই ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে:
- যুদ্ধবিমান হতে পারে সহায়ক, কিন্তু মূল প্রতিরক্ষা নয়
- সস্তা হুমকির বিরুদ্ধে সস্তা সমাধানই কার্যকর
- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ড্রোন উৎক্ষেপণ সক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া
উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান বাস্তবতা স্পষ্ট—
ড্রোন যুদ্ধ আকাশযুদ্ধের ধরণ বদলে দিয়েছে।
শুধু প্রতিরোধ নয়, কৌশল বদলানোই এখন জরুরি।
নয়তো সস্তা ড্রোনের বিরুদ্ধে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে অকার্যকর হয়ে পড়বে।

